empty
 
 
05.10.2026 10:11 AM
জ্বালানি তেলের মূল্যের অস্থিতিশীলতা অব্যাহত রয়েছে

আজ ব্রেন্ট গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি $101-এ নেমে এসেছে, যেখানে ডব্লিউটিআই গ্রেডের তেলের দর প্রায় $90-এ অবস্থান করছে। অক্টোবরে এশীয় ক্রেতাদের জন্য সৌদি আরামকোর আরব লাইট ক্রুডের দর আঞ্চলিক বেঞ্চমার্কের চেয়ে $5 কম নির্ধারণের সিদ্ধান্তই এই দরপতনের মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মার্কেটে এর বিপরীত পরিস্থিতিরই প্রত্যাশা করা হচ্ছি — ট্রেডাররা ও শোধনাগারগুলো $5 বাড়তি মূল্যের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এতে এশীয় শোধনাগার এবং জ্বালানি ভোক্তারা লাভবান হয়। সৌদি আরব ব্যারেলপ্রতি রাজস্ব হারালেও বাজারে আধিপত্য রক্ষা করতে পেরেছে। তবে, ইয়েমেনের সাথে লড়াই তীব্রতর হওয়ায় এই দরপতনের ফলে সৃষ্ট ইতিবাচক পরিস্থিতি আংশিকভাবে প্রশমিত হয়েছে।

This image is no longer relevant

মার্কেটের মুভমেন্ট স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ট্রেডারদের প্রত্যাশার তুলনায়, জ্বালানি তেলের মূল্যের $10 মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে। আপনি যদি এপ্রিলের পরিস্থিতির দিকে তাকান, যখন যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে আরামকো এশিয়ার জন্য $19.50-এর রেকর্ড প্রিমিয়াম সেট করে, তাহলে সেই স্তর থেকে বর্তমান ছাড় $24.50। বর্তমান সিদ্ধান্তটি সুস্পষ্ট স্বীকৃতি দেয় যে বর্তমানে মজুদে আশঙ্কার চেয়ে বেশি তেল রয়েছে এবং দেশটি ঘাটতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সর্বাধিক রাজস্ব করার পরিবর্তে এশিয়ান গ্রাহকদের ধরে রাখার পথ বেছে নিচ্ছে।

সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় এই দরপতন বেশ উল্লেখযোগ্য। ১১ই সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের তেলের মূল্য ছিল প্রায় $107.63; অর্থাৎ সেই পর্যায় থেকে জ্বালানি তেলের মূল্য প্রায় 6% কমেছে এবং যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ দর (এপ্রিল মাসে $12) থেকে কমেছে প্রায় 12%। ডব্লিউটিআই-এর ক্ষেত্রে দরপতনের হার আরও বেশি: ১১ই সেপ্টেম্বর এর দাম ছিল $102.48, যা এখন $90 কাছাকাছি অবস্থান করছে—অর্থাৎ দর কমেছে প্রায় 12%। এই দুই ধরনের তেলের দামের পার্থক্য $5 সামান্য বেশি থেকে বেড়ে প্রায় $11-এ দাঁড়িয়েছে। মার্কিন বেঞ্চমার্ক গ্রেডের তেলের দাম দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ: কারণ এটির দাম মূলত অভ্যন্তরীণ মজুদের ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দামে এখনও সরবরাহ-সংক্রান্ত ঝুঁকির হলে সৃষ্ট বাড়তি মূল্য বজায় রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্তরের কাছাকাছি ফিরে এসেছে, যদিও পরিশোধিত পণ্য সরবরাহ সীমাবদ্ধ রয়েছে। মনে করে দেখুন যে 11 সেপ্টেম্বর ফিউচারের উপর ডেটেড ব্রেন্ট ফিজিক্যাল প্রিমিয়াম $12 ছাড়িয়ে গেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মূল্য রেকর্ড উচ্চতায় পৌছেছে আঘাত করেছে। দাম কমানোর জন্য, G7 এবং এর অংশীদাররা গত সপ্তাহে জরুরিভিত্তিতে বাড়তি মজুদ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে।

তবে আগেই যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, এই সমীকরণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইয়েমেন। রিয়াদের সমর্থনপুষ্ট সরকার ইরান-সমর্থিত হুথিদের দখলে থাকা সমস্ত এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করেছে। হুথিরা একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তেমনি সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতেও আঘাত হানছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্ষেত্রে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর দিকে অবস্থিত দেশটির পশ্চিম উপকূলের নিয়ন্ত্রণই নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সমুদ্রপথে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও ঝুঁকি রয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস ৪ অক্টোবর হরমুজ প্রণালীতে সংঘঠিত একটি ঘটনার কথা জানিয়েছে এবং লোহিত সাগরে মোচা উপকূলের কাছে আরেকটি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, নভেম্বর মাসের উৎপাদন কোটা অপরিবর্তিত রাখার বিষয়ে ওপেক প্লাস-এর প্রধান অংশীদারদের সিদ্ধান্ত কার্যত কোনো পরিবর্তনই আসেনি।

সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের ক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হলো—প্রথমে জ্বালানি তেলের দাম, এরপর মুদ্রাস্ফীতি এবং সবশেষে সুদের হার। জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সেপ্টেম্বরে ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতি 3.8%-এ পৌঁছাছে, যেখানে জ্বালানি খাতের অবদান ছিল 18.8% (বার্ষিক ভিত্তিতে); অন্যদিকে আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্য সূচক ছিল 3.4%, যার মধ্যে মাসিক ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশেই পেট্রোল বা গ্যাসোলিনের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি অবদান রেখেছে। সুতরাং, জ্বালানি তেলের মূল্যের অস্থিতিশীলতা মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি-নির্ধারণী সমীকরণ বদলে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুযায়ী অক্টোবরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা 20%-এরও কম বলে মনে করা হচ্ছে এবং তেলের দরপতনের ফলে এই ধারণা আরও জোরদার হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, জ্বালানি তেলের মূল্য কি $100 ব্রেক করে এর নিচে অবস্থান করার জন্য প্রস্তুত? উত্তর হলো—এখনও নয়। তেলের দর এই লেভেলের আশেপাশেই ওঠানামা করছে কারণ দুটি বিপরীতমুখী বিষয় পরিস্থিতিকে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রেখেছে: একদিকে সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে তেলের দরপতন ঘটছে, অন্যদিকে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এবং ইয়েমেন কেন্দ্রিক সামরিক অভিযান তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। আমার মতে, আগামী সেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের মূল্যের কিছুটা নিম্নমুখী থাকার প্রবণতা দেখা যেতে পারে; জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকলে এবং জি-৭-এর জরুরি মজুত বাজারে আসতে শুরু করলে ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের তেলের দর দাম $98–$99-এ নেমে পারে। তবে হরমুজ প্রণালী, মোচা উপকূল কিংবা সৌদি আরবের অবকাঠামোতে বড় কোনো ঘটনা ঘটলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জ্বালানি তেলের দর আবার $105 ছাড়িয়ে যেতে পারে।

This image is no longer relevant

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $92-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $96-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $100 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $89-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $87 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $83 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.