আরও দেখুন
শুক্রবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপীয় ইউনিয়নে খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে; তবে এখন কি ট্রেডারদের মধ্যে খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্রতি বিশেষ আগ্রহ আছে? সকল ট্রেডারের মনোযোগ এখন যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি এবং শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ওপর নিবদ্ধ হয়েছে, কারণ মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনও কারো কাছেই স্পষ্ট নয়। আজ দেশটিতে নন-ফার্ম পেরোল এবং বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রকাশিত হবে, যা সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভের মূল সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ট্রেডারদের প্রত্যাশায় পরিবর্তন আনতে পারে।
শুক্রবারের গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট হিসেবে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফিলিপ লেনের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। নিকটমেয়াদে এই দুই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করা যায় তা মোটামুটি স্পষ্ট হলেও, এ বিষয়ে তাদের বাড়তি মন্তব্য বা ইঙ্গিত নিশ্চয়ই বাড়তি উপকারে আসবে। উল্লেখ্য, বর্তমান মূল ধারণা অনুযায়ী, এই শরতে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক নীতিমালা আরও কঠোর করতে পারে এবং যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকলে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডও একই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও তেমন সন্তোষজনক নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আলোচনা হচ্ছে না; হরমুজ প্রণালী বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ইরানের সাথে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইরানকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার ব্যাপারে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে কেউ সমর্থন করেনি এবং এটি আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তাও অনিশ্চিত। এদিকে জানা গেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ইরানও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
চলতি সপ্তাহের শেষদিনের ট্রেডিংয়ে, উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের শক্তিশালী মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে। আজ ইউরো 1.1655–1.1665 রেঞ্জের মধ্যে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3456–1.3476 এবং 1.3587–1.3598 এরিয়ার মধ্যে ট্রেডিং করা যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে, ইউরো ও পাউন্ডের দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে, কারণ উভয় কারেন্সি পেয়ারের টেকনিক্যাল চার্ট অনুযায়ী এখন 'নিম্নমুখী' প্রবণতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে আজ যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম পেরোল এবং বেকারত্বের হার বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে; এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল মার্কেটকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে মধ্যমেয়াদে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনাই বেশি রয়েছে। মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য এখনও কেবল কারেকশনের ওপরই নির্ভর করা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।