empty
 
 
31.07.2026 08:22 AM
মাইক্রোসফটের আয়ের প্রতিবেদনের শক্তিশালী ফলাফল ঝুঁকি দূর করতে পারছে না—ফেডারেল রিজার্ভ ও ইরানে চলমান সংঘাত স্টক মার্কেটের উপর চাপ সৃষ্টি করছে

This image is no longer relevant

মাইক্রোসফটের মাইক্রোসফটের আয়ের প্রতিবেদনের শক্তিশালী ফলাফলের প্রভাবে মার্কিন ইকুইটি সূচকের ফিউচার প্রাথমিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হলেও পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া এবং ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ বৈঠকে হকিশ বা কঠোর অবস্থান সংক্রান্ত ইঙ্গিতগুলোর কারণে সেই অর্জিত প্রবৃদ্ধি কিছুটা হ্রাস পায়।

মেটা মেটা-র স্টক দরপতনও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যা প্রযুক্তি খাতভিত্তিক স্টকের ক্ষেত্রে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

মস্কো সময় সকাল ৯:৪৯-এ S&P 500 সূচকের ফিউচারস প্রায় 0.1% বেড়ে 7,361.50-এ অবস্থান করছিল। নাসডাক 100 ফিউচারস 0.39% বেড়ে 27,448.50-এ পৌঁছায়, অন্যদিকে ডাউ জোন্স ফিউচারস 51,764.0-এর কাছাকাছি প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।

ওয়াল স্ট্রিটে একটি বিপর্যয়কর ট্রেডিং সেশনে ঠিক পরেই এই প্রাথমিক আশাবাদ দেখা দেয়; সেই সেশনে প্রযুক্তি খাতের—বিশেষ করে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টকের—বড় ধরনের দরপতনের ফলে কোম্পানিগুলোর ইতিবাচক আয়ের প্রতিবেদনগুলোর সুফলকে অনেকটাই ম্লান করে গিয়েছিল। ট্রেডাররা কেবল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েই উদ্বিগ্ন ছিলেন না; এশীয় সয়ক মার্কেটের অস্থিরতাও (যেখানে চিপ-সংক্রান্ত স্টকের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল সূচক কসপি বড় ধরনের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল) ওয়াল স্ট্রিটে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

শুরুর দিকের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মূল চালিকাশক্তি ছিল মাইক্রোসফট। 'অ্যাজিউর'-এর প্রবৃদ্ধি এবং এআই সলিউশনের দৃঢ় চাহিদার কারণে চতুর্থ প্রান্তিকের (জুন মাসে সমাপ্ত) আয়ের প্রতিবেদনের শক্তিশালী ফলাফল প্রকাশের পর, বুধবার আফটার-আওয়ার ট্রেডিংয়ে মাইক্রোসফটের স্টকের দর প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে যায়। কোম্পানিটি তাদের আয় এবং ক্লাউড-সংক্রান্ত পূর্বাভাসের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া, মাইক্রোসফট তাদের ২০২৬ সালের মূলধনী ব্যয়ের পূর্বাভাস ১৯০ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনে এবং প্রথম প্রান্তিকের মূলধনী ব্যয়ও কিছুটা কম—প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার—হিসেবে উঠে আসে; এআই ও ডেটা সেন্টারের পেছনে বিপুল ব্যয়ের বিষয়ে উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি ছিল একটি স্বস্তিদায়ক সংকেত।

এর বিপরীতে মেটার হতাশাজনক ফলাফল প্রকাশিত হবে: দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল ফলাফল এবং তৃতীয় প্রান্তিকের ক্ষেত্রে হতাশাজনক পূর্বাভাসের কারণে আফটার-আওয়ার ট্রেডিংয়ে মেটা প্ল্যাটফর্মসের স্টকের দর প্রায় ৭ শতাংশ কমে যায়। কোম্পানিটি তাদের ২০২৬ সালের মূলধনী ব্যয়ের পূর্বাভাসের সর্বনিম্ন সীমা ১২৫–১৪৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৩০–১৪৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। মেটার আয়ের প্রতিবেদনটি এআই কাহতে বিশাল বিনিয়োগ এবং পুনর্গঠনজনিত ব্যয়ের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান টানাপড়েনকে স্পষ্ট করে তুলেছে; এই ব্যয়ের চাপ তাদের মূল ডিজিটাল-বিজ্ঞাপন খাত থেকে আসা আয়কে আংশিকভাবে ম্লান করে দিয়েছে।

মাইক্রোসফট ও মেটার প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি খাতের এক ব্যস্ত সপ্তাহের সূচনা হয়েছে; বৃহস্পতিবার আমাজনঅ্যাপল তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে। বুধবার ওয়াল স্ট্রিটে নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যার পেছনে ছিল সেমিকন্ডাক্টর খাতের দুর্বলতা এবং মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত—এই দুইয়ের সম্মিলিত চাপ প্রভাব বিস্তার করেছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে, তবে তাদের বৈঠকে সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ পরবর্তী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে কেবল মূল্যস্ফীতির হার ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ফলে, মার্কিন স্টক মার্কেটে শুরুর দিকের ট্রেডিংয়ে পরস্পরবিরোধী সংকেত দেখা গেছে: শক্তিশালী করপোরেট ফলাফলের ইতিবাচক প্রভাব ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মুদ্রানীতি-সংক্রান্ত ঝুঁকির কাছে ম্লান হয়ে পড়েছে, যার ফলে নতুন কোনো প্রতিবেদন বা মন্তব্যের প্রতি স্টক মার্কেট অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.