empty
 
 
21.01.2026 02:43 PM
যুক্তরাজ্যে মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি পেয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশের পর পাউন্ডের দর বেড়েছে, কারণ পাঁচ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবু অনেক অর্থনীতিবিদ দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির বৃদ্ধির প্রবণতা অস্থায়ী বলে মনে করছেন, কারণ যুক্তরাজ্য সরকার বসন্তে মূল্যস্ফীতির চাপ হ্রাসে কিছু পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে।

This image is no longer relevant

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্সের (ONS) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যে ভোক্তা মূল্য সূচক বার্ষিক ভিত্তিতে বৃদ্ধি পেয়ে 3.4%-এ পৌঁছেছে, যা আগের মাসের 3.2%-এর তুলনায় বেশি। অর্থনীতিবিদরা 3.3%-এ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

ONS জানিয়েছে যে জুলাইয়ের পর প্রথম এই বৃদ্ধিতে ধূমপান জাতীয় পণ্যের উপর বাড়তি শুল্ক এবং বিমানভাড়া বৃদ্ধিই প্রধান ভূমিকা রেখেছে। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড পরিষেবা খাতের মুদ্রাস্ফীতি হার ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে কারণ এটি দেশটির মূল্যস্ফীতির ঘড়ি হিসেবে বিবেচিত হয়, সেই পরিষেবা খাতের মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে 4.5%-এ পৌঁছেছে, যা আগের মাসে 4.4%-এ ছিল। তবে এই বৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কম।

সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মন্দার ঝুঁকি বিবেচনায় বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদ এখনও মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করবে। স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য দেশটির সরকার কর্তৃক বসন্তে গৃহীত সহায়তা ব্যবস্থা প্রথম প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি হ্রাসে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের ওপর সৃষ্ট চাপও উপশম হতে পারে।

এখন বসন্তে দেশটির মুদ্রাস্ফীতির হার লক্ষ্যমাত্রা 2%-এর দিকে নেমে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। উপরে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভসের বাজেট—যেখানে রেল ভাড়া এবং বিদ্যুত্ বিল কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল—মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির গতি প্রায় 0.5 শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা সুদের হার হ্রাস চক্রের শেষের দিকে পৌঁছাচ্ছে এবং শ্রমবাজার পরিস্থিতির দুর্বলতার লক্ষণগুলো সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।

আর্থিক নীতিমালা স্থিতিশীল থাকলে দেশটির কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে গৃহীত সহায়তা ব্যবস্থা অর্থনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলছে তা মূল্যায়ন করতে পারবে এবং মুদ্রাস্ফীতির তীব্র বৃদ্ধি বা আর্থিক অস্থিরতার মতো অনিশ্চিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়ানো যাবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে মূল নির্ণায়ক হিসেবে শ্রমবাজারের অবস্থাই বিবেচনা করা হবে। গতকাল পরিলক্ষিত শ্রমবাজার দুর্বলতার লক্ষণগুলো মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভোক্তা চাহিদা হ্রাসের ইঙ্গিত দিতে পারে; সেই ক্ষেত্রে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডকে অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে কার্যকলাপ সমর্থনে ফের সুদের হার হ্রাস করতে হতে পারে। বিপরীতভাবে, কর্মসংস্থানের হার দৃঢ়ভাবে ব্যহত না হলে উদ্বৃত্ত বেতন বৃদ্ধিসহ শ্রমবাজারের শক্তিশালী পরিস্থিতি দেখা গেলে মুদ্রাস্ফীতি সীমিত পর্যায়ে রাখতে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাবে।

This image is no longer relevant

আগামী কয়েক মাসে কর্মসংস্থান, বেতন ও শূন্যপদ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্রতি ঘনিষ্ঠভাবে নজর দেয়া উচিত। এসব সূচক ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কেন্দ্রীয় ভিত্তি হবে এবং মধ্যমেয়াদে ব্রিটিশ অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।

GBP/USD-এর ক্ষেত্রে ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্রেতাদের পাউন্ডের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স 1.3460 লেভেলে নিয়ে যেতে হবে। কেবল এটি করা গেলে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.3490-এর লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। সম্প্রসারিত লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3520-এর লেভেলে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করা যায়। যদি এই পেয়ারের দরপতন হয়, মূল্য 1.3425-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে ঐ রেঞ্জ ব্রেক করলে বুলিশ পজিশনগুলোকে মারাত্মকভাবে লিকুইডেট হয়ে যেতে পারে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3400 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, এবং পরবর্তীতে 1.3380 পর্যন্ত দরপতন প্রসারিত হতে পারে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.