আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার আবারও EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট দেখা যায়নি; পাশাপাশি কোনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক বা মৌলিক প্রভাবকও ছিল না। এই পেয়ারের সামান্য দরপতন হলেও, এক ঘণ্টার টাইমফ্রেম অনুযায়ী সামগ্রিক টেকনিক্যাল চিত্রে এর কোনো বড় প্রভাব দেখা যায়নি। মূলত, পুরো সপ্তাহজুড়ে ইউরোর মূল্য 1.1190 এবং 1.1260 লেভেলের মধ্যেই ওঠানামা করেছে। টানা এক মাস দরপতনের পর, মার্কেটে ইউরো কেনার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এখন আমাদের আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এমনকি যদি উভয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকই মূল সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে, তবুও মার্কিন ডলারের পুনরায় শক্তিশালী হলে সেটা আমাদের কাছে আশ্চর্যজনক হবে না। দুর্ভাগ্যবশত, ট্রেডাররা এখনো ইউরোর জন্য ইতিবাচক বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে চলেছে। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, ইউরো সম্পর্কিত ইতিবাচক খবরগুলোকে ট্রেডাররা গুরুত্বই দিচ্ছে না, অথচ নেতিবাচক খবরের ক্ষেত্রে অনেক বেশি জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা শেষ হয়েছে, তবুও এই পেয়ারের মূল্য এখনও 1.1267-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স লেভেলটি অতিক্রম করতে পারছে না।
বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। ইউরোপীয় সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ায় নেমে আসে, কিন্তু দিনের শেষ নাগাদ এই পেয়ারের মূল্য এই এরিয়ার নিচে দৃঢ়ভাবে অবস্থান গ্রহণ করতে বা এখান থেকে বাউন্স করতে ব্যর্থ হয়।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এখনও EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, যা পূর্ণাঙ্গ প্রবণতার রূপ নিয়েছে; তবে এমন কিছু কারণ দেখা যাচ্ছে যা থেকে মনে হতে পারে যে এই প্রবণতাটি হয়তো সমাপ্তির পথে এগোচ্ছে। গত কয়েক মাসের সার্বিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, টানা এক মাস ধরে এভাবে ইউরোর দরপতন হওয়ার কথা ছিল না। বর্তমানে মার্কিন ডলার ওভারবট কন্ডিশনে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে এবং ইউরোর পক্ষে বিদ্যমান অনেক ইতিবাচক মৌলিক বিষয়কে উপেক্ষা করা হয়েছে।
শুক্রবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল হলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1132–1.1140-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়া থেকে নতুন করে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1267–1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1011, 1.1088, 1.1132–1.1140, 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665। শুক্রবার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরের বিজনেস অ্যাক্টিভিটি সূচক প্রকাশিত হবে। ইউরোপীয় সূচকগুলো মার্কেটে ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, অন্যদিকে ট্রেডাররা যুক্তরাষ্ট্রের ISM সূচকের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাকেই শ্রেয় মনে করবেন। আজ মার্কেটে পুরো সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বাড়তি সক্রিয়তা দেখা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।