আরও দেখুন
মঙ্গলবার কোনো স্থানীয় কারণ ছাড়াই GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান আবাসন বিক্রি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, যা বিকেলে হাতে আসে। অথচ পাউন্ডের মূল্য আগের রাতেই বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল এবং সারাদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। সুতরাং, আবারও বলা যায় যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এই পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্টের উপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। গত আড়াই সপ্তাহ ধরে স্পষ্টভাবেই পাউন্ডের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে ওঠানামা করছে, তাই এই রেঞ্জের মধ্যে পাউন্ডের মূল্যের এলোমেলো মুভমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো বিস্ময় বা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটছে না। সামগ্রিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে এবং ইউরোর মতোই পাউন্ডের মূল্যও কোনো উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাতে পারছে না। পরবর্তীতে বড় কোনো মুভমেন্টের আগে কারেন্সি মার্কেট এখন কিছুটা স্থবির অবস্থায় রয়েছে। এই মুভমেন্টটি কোন দিকে হবে? মার্কিন ডলারের দর পুনরায় বাড়তে শুরু করলে আমরা অবাক হব না, যদিও এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই।
মঙ্গলবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। দিনের বেলা এই পেয়ারের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হলেও সেশনের শেষ নাগাদ মূল্য কেবল 1.3259–1.3267 এরিয়ায় পৌঁছাতে পেরেছিল। তাই আজ সিগন্যাল গঠনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত, ফলে মার্কিন ডলারের সার্বিক মৌলিক প্রেক্ষাপটের উন্নতি ঘটেছে। তবে প্রায় একমাস পেরিয়ে গেলেও ট্রেডাররা শুধুমাত্র মার্কিন ডলার ক্রয় করেই যাচ্ছে। অবশ্য ফেডের আর্থিক নীতিমালাই মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির একমাত্র কারণ কিনা এ বিষয়ে আমাদের ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। তাই, মার্কেটে পরিলক্ষিত বর্তমান মুভমেন্টকে আমরা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে করছি।
বুধবার এই পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3175–1.3180-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 এরিয়ার উপর স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। বুধবার যুক্তরাজ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই; তবে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে গেলে তা ফেডের মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে মার্কেটে হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের প্রত্যাশা বেড়ে যেতে পারে এবং এর ফলে মার্কিন ডলারের দর আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।