আরও দেখুন
শুক্রবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের সামান্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সেই দিন, সপ্তাহ বা এমনকি গত এক মাসের ঘটনাপ্রবাহের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম পেরোল এবং বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদনের যে হতাশাজনক পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে, তাতে ইতিবাচক কিছুই ছিল না। যেহেতু এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল সরাসরি ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতিমালাকে প্রভাবিত করে, তাই এগুলোকে কোনোভাবেই স্বল্প গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। পরিসংখ্যানগুলো বেশ চমকপ্রদ ছিল: ট্রেডাররা বেকারত্ব বৃদ্ধির আশঙ্কা করেনি এবং 90k নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করেছিল; কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে মাত্র 29k নতুন কর্মসংস্থান এবং আগের মাসের পরিসংখ্যানে 30k কর্মসংস্থান কমিয়ে সংশোধনের বিষয়টি উঠে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই এর ফলে মার্কিন ডলারের বড় ধরনের দরপতন এবং GBP/USD-এর মূল্যের তীব্র ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা আগেও বহুবার বলেছি, ট্রেডাররা প্রায় প্রতিদিনই মার্কিন ডলার কিনছে এবং ডলারের বিপক্ষে যায় এমন সব বিষয়কে উপেক্ষা করছে। প্রায় এক মাস ধরে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো খবরের প্রেক্ষিতেই মার্কিন ডলারের দর বাড়ছে।
শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে অত্যন্ত কার্যকর একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। এশিয়ান সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.3175–1.3180 এরিয়া থেকে বাউন্স করে এবং দিনের বেশিরভাগ সময় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আমেরিকান সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 এরিয়ার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল; এই পর্যায়ে ট্রেডাররা তাদের লং পজিশন থেকে মুনাফা তুলে নিতে পারতেন।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত, ফলে মার্কিন ডলারের সার্বিক মৌলিক প্রেক্ষাপটের উন্নতি ঘটেছে। তবে আড়াই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ট্রেডাররা শুধুমাত্র মার্কিন ডলার ক্রয় করেই যাচ্ছে। অবশ্য ফেডের আর্থিক নীতিমালাই মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির একমাত্র কারণ কিনা এ বিষয়ে আমাদের ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। তাই, মার্কেটে পরিলক্ষিত বর্তমান মুভমেন্টকে আমরা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে করছি।
সোমবার এই পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3175–1.3180-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 এরিয়ার উপর কনসলিডেট করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। সোমবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, তবে যুক্তরাষ্ট্রে ISM সার্ভিসেস ইনডেক্স প্রকাশিত হবে। অবশ্য এই প্রতিবেদনটির বিশেষ কোনো গুরুত্ব আছে বলে আমাদের মনে হয় না, কারণ ট্রেডাররা মূলত মার্কিন ডলার বিক্রি করতে চাইছে না।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।