আরও দেখুন
বুধবার সন্ধ্যায় EUR/USD কারেন্সি পেয়ার তীব্র দরপতনের শিকার হয়। ট্রেডাররা ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতিমালা কঠোর হওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে এতটা কঠোর বা হকিশ অবস্থান গ্রহণ করবে, তা কেউ আঁচ করতে পারেনি। বাস্তবিক অর্থে, ফেডারেল রিজার্ভ কেবল মূল সুদের হারই বাড়ায়নি, বরং বছরের শেষ নাগাদ অন্তত আরও একবার নীতিমালা কঠোর করার ইঙ্গিতও দিয়েছে; তাছাড়া ফেডের অধিকাংশ সদস্যই নতুন চেয়ারম্যানের এই পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থাৎ, ফেডারেল রিজার্ভের এই সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা ট্রেডারদের খুশি করার প্রচেষ্টা ছিল না—বরং তারা উচ্চ মূল্যস্ফীতি দমনে প্রকৃত অর্থেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং মূল্যস্ফীতি 2%-এর স্তরে ফিরে না আসা পর্যন্ত আর্থিক নীতিমালা কঠোর রাখার বিষয়ে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ফেডের এই হকিশ বা কঠোর অবস্থানের ফলে মার্কিন ডলারের দর আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে, যদিও আর্থিক নীতিমালা কঠোর হওয়ার প্রত্যাশায় আগের পাঁচ দিন ধরেই এটির মূল্য বাড়ছিল। সংক্ষেপে বলতে গেলে মার্কিন ডলারের দর প্রথমে প্রত্যাশার কারণে এবং পরে বাস্তব পদক্ষেপের কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম যে, ট্রেডাররা হয়তো মার্কিন ডলার কেনার জন্য কোনো একটা অজুহাত খুঁজছিল—আর বুধবার সন্ধ্যায় তারা সেই অজুহাতটি পেয়ে যায়।
বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। প্রথম বাই সিগন্যালের ক্ষেত্রে ইউরোর মূল্য বাড়েনি; তাছাড়া ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে লং পজিশন ওপেন করাটা খুব একটা যুক্তিযুক্ত ছিল না। অন্যদিকে, এই পেয়ারের মূল্য 1.1527–1.1531 এরিয়ার নিচে ক্লোজিং বা অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে একটি সেল সিগন্যাল পাওয়া গিয়েছিল এবং ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করে লাভবান হতে পারতেন। ফেডারেল রিজার্ভের গৃহীত অবস্থান বিবেচনায় নিলে, সেটি একটি বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ ছিল।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে এবং এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে —এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই; তবে ট্রেডাররা এখন মূলত ফেডারেল রিজার্ভের গৃহীত নীতিমালা ওপর মনোযোগ দিচ্ছে, যা এই সপ্তাহে মার্কিন ডলারের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে অনুকূল হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1461–1.1474 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1366–1.1377-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1461–1.1474 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1527–1.1531-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665, 1.1745–1.1754। বৃহস্পতিবার ইউরোজোনে শুধুমাত্র আগস্ট মাসের মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এই প্রতিবেদনগুলোর প্রভাবে মার্কেটে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে বলে আমরা মনে করি না।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।