empty
 
 
07.08.2026 11:15 AM
জাহাজ চলাচলের জন্য ক্ষতিপূরণ ও মার্কিন জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা: হরমুজ চুক্তির পরেও কেন প্রণালীটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হবে না

ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীতে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের হামলার জেরে গতকাল জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে। এর আগে টানা তিন দিন ধরে ডব্লিউটিআই গ্রেডের তেলের দর বৃদ্ধি পেয়েছিল; কারণ এমন ধারণা ক্রমশ দৃঢ় হচ্ছিল যে, ইরান ও ওমানের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি হলেও তা হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় তেল সরবরাহ পুরোপুরিভাবে চালুর পথ প্রশস্ত করবে না।

This image is no longer relevant

এর আগে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছিল যে, তেহরান এই সমুদ্রপথ দিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করবে এবং চলাচলের অনুমোদন দেওয়ার আগে শত্রুদেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করবে। ট্রেডাররা এই খবরগুলোর অর্থ পরিষ্কারভাবেই বুঝে নিয়েছিলেন: অদূর ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি রপ্তানি সীমিতই থাকবে। ইউরোপীয় গ্যাস মার্কেটে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং এক পর্যায়ে ফিউচারের দর ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর আগেও এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। ইরান জানিয়েছিল যে, প্রস্তাবিত নৌ-চলাচল করিডোর বিষয়ক চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবুও দেশটি জোর দিয়ে বলছে যে, ওমানের সাথে হওয়া এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নয়; এর অর্থ হলো, এই প্রণালীতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করাটা নির্ভর করবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের ওপর।

তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও, এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়ার পর সপ্তাহের শুরুতে যে দরপতন হয়েছিল, তার বড় একটি অংশ এখনো বজায় রয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল পুনরুদ্ধার হলে গত পাঁচ মাসের সংঘাতের কারণে ব্যাহত হওয়া লাখ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ পুনরায় সচল হবে—আর মার্কেটের মুভমেন্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, সপ্তাহের বেশিরভাগ সময়জুড়েই এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

This image is no longer relevant

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $78.70-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $81.11-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $83.56 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $76.30-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $73.79 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $71.69 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.