আরও দেখুন
সোমবার কোনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। সুতরাং, আজ ট্রেডারদের প্রভাবিত করার মতো তেমন কিছু থাকবে না। উভয় কারেন্সি পেয়ারের ক্ষেত্রেই আবারও সম্পূর্ণরূপে টেকনিক্যাল মুভমেন্ট দেখা যাবে। শুধুমাত্র ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিই মার্কেটের মুভমেন্টকে প্রভাবিত করতে পারে।
সোমবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের প্রতিনিধি মিশেল বোম্যান ও ক্রিস্টোফার ওয়ালার, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদস্য ইসাবেল স্নাবেল এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের হিউ পিলের ভাষণ উল্লেখযোগ্য। ইসিবির মুদ্রানীতি সংক্রান্ত অবস্থান বর্তমানে বেশ অস্পষ্ট এবং তা মূলত আসন্ন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। গত বৈঠকে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার আরও বাড়ানোর দিকে ঝুঁকেছিল, কিন্তু ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি কমতে শুরু করেছে এবং এই অঞ্চলের মুদ্রাস্ফীতির ভবিষ্যৎ হার মূলত হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ওপর নির্ভর করবে। এই বিষয়ে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া অসম্ভব। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড এবং ফেডের ক্ষেত্রেও তাদের মুদ্রানীতি মুদ্রাস্ফীতির ওপর নির্ভর করবে। যেহেতু হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত এবং জ্বালানি তেলের মূল্য আবার বাড়ছে, তাই এই বিষয়ে পূর্বাভাস দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। আমাদের মূলত আসন্ন মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো খতিয়ে দেখতে হবে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ধারাবাহিকভাবে "শর্তসাপেক্ষে ইতিবাচক" রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে; যদিও, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে, 'পারমাণবিক ইস্যু', লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিরোধ বজায় রয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে, ট্রেডাররা হয়তো পুনরায় একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা করতে পারে, কিন্তু মার্কিন ডলারের দর আবার সক্রিয়ভাবে বাড়তে শুরু করার জন্য এটি স্পষ্টতই যথেষ্ট নয়। সর্বোপরি, তেহরান এবং ওয়াশিংটন এখনও শান্তি স্থাপনের পথেই রয়েছে এবং আলোচনা অব্যাহত আছে। তবে, গত সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ থেকে আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতার ইঙ্গিত পেয়েছি। ফলে চলমান আলোচনা এবং বিদ্যমান চুক্তি যেকোনো মুহূর্তে ভেস্তে যেতে পারে।
চলতি সপ্তাহের প্রথম দিনের ট্রেডিংয়ে, উভয় কারেন্সি পেয়ারই খুবই মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে, কারণ আজ কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নেই। ইউরো এবং পাউন্ড উভয়ই শুধুমাত্র টেকনিক্যাল বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে ট্রেড করা যেতে পারে। ইউরো 1.1420-1.1432 এরিয়া থেকে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3380-1.3386 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে। আজ আমরা মার্কেটে শক্তিশালী মুভমেন্ট বা উচ্চমাত্রার অস্থিরতা আশা করছি না।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।