আরও দেখুন
বুধবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, সেইসাথে মঙ্গলবার দেখা গেছে যে ট্রেডাররা প্রকাশিত অধিকাংশ প্রতিবেদন উপেক্ষা করে চলছে। উদাহরণস্বরূপ, গতকাল ট্রেডাররা যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফলের প্রতি মোটেই প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। আজ দিনের একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন হিসেবে যুক্তরাজ্যে মার্চ মাসের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এই প্রতিবেদনটির ফলাফলের মাধ্যমে বোঝা যাবে যে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোক্তা মূল্য সূচকের ওপর কেমন প্রভাব পড়েছে। আগামী মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির হার যত বেশি বাড়বে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের আর্থিক নীতিমালা কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা ততই বাড়বে। তবে আবারও এটি বলা দরকার যে ট্রেডাররা বর্তমানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল ও মৌলিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে চলেছে।
বুধবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফিলিপ লেন এবং ইসিবির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনে লাগার্ডের বক্তব্য বেশ উল্লেখযোগ্য। তবুও ট্রেডাররা এখনও আর্থিক নীতিমালার প্রতি তেমন কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না, ফলে ইসিবি, ফেড ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিদের বিবৃতি এই মুহূর্তে ততটা প্রাসঙ্গিক নয়। 2026 সালে ফেডের আর্থিক নীতিমালা কঠোর হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যখন মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি পেলে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ও ইসিবি মূল সুদের হার বাড়াতে পারে। তবু ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রায় প্রতিদিনই বদলাচ্ছে, ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাদ্বন্দের মধ্যে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত না হয় তাহলে এই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে—আর যদি ইরান দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসতে সম্মত না হয় তাহলে চুক্তি কীভাবে হবে? তবে বাস্তব ও নিশ্চিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে ট্রেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত: হয় যুদ্ধ পুনরায় শুরু হবে, না হলে আলোচনা শুরু হবে ও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে।
সপ্তাহের তৃতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের কারেকশন অব্যাহত থাকতে পারে, তবে ট্রেডারদের টেকনিক্যাল লেভেল এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর উপর দৃষ্টিপাত করা উচিত। আজ ইউরো 1.1745-1.1754 এরিয়ার মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে, এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3476-1.3489 এরিয়ার মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। আমরা এখনও মার্কিন ডলারের মূল্যের শক্তিশালী ও স্থিতিশীল বৃদ্ধির জন্য কোনো ভিত্তি দেখতে পাচ্ছি না (শুধু ভূ-রাজনীতি নয়, সব বিষয় বিবেচনায়), তাই ২০২৫ সালের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ২০২৬ সালেও পুনরায় শুরু হওয়ার প্রত্যাশা করছি, যার ফলে ইউরো ও পাউন্ডের মূল্য ৪ বছরের উচ্চতার দিকে যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।